যাত্রাবাড়ি, একটা থানার নাম যা ১৯৫০ সালে যাত্রাবাড়ি ছিল একটি নিভূত পল্লী গ্রাম। সেই গ্রামে একটি বাড়ি ছিল যেখানে যাত্রামন্ডপটি অবস্তিত  ছিল। প্রতিদিন রাতে যাত্রা পালা হতো।  গ্রামের লোকজনেরা মিলে প্রতিদিন ঐ বাড়িতে যাত্রা দেখার জন্য ভিড় জমাইত। তখন কাল চিত্রবিন্দন ছিন এই যাত্রা পালা। তখন থেকে লোকজনে ঐ বাড়িটাকে যাত্রাবাড়ি নামে ডাকত। তখন থেকে যাত্রাবাড়ি নামে হিসাবে পরিচিত হয়। ঢাকা শহরের পাশেই ছিন এই যাত্রা বাড়ি। পাকিস্তান আমলে এই যাত্রাবাড়ির নাম ছিল নিভূত পল্লী। তবে সেখানের পরিবেশ ছিল গ্রামের মতো। ফুল কফি,বাধা কফি তরিতরকারির ইত্যাদি ফলন ভালো হতো। তবে বর্তমানে সেই যাত্রাবাড়ীর চিত্র অন্যরকম হয়ে পরেছে। সময়ের সাথে সাথে পালটে গেছে যাত্রাবাড়ি থানা। বর্তমানে এই যাত্রাবাড়ি ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর যাত্রাবাড়ী নামে পরিচিত। বর্তমানে এই যাত্রাবাড়ি অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তাছারা এখন এই যাত্রাবাড়ীর মধ্যে হয়ে ওঠেছে বিভিন্ন ধরনের বড় বড় মার্কেট। হয়ে ওঠেছে একটি জনপ্রিয় বাজার। দেশের বিভিন্ন জেলার পাইকাররা তাদের পণ্য বিক্রয় করতে নিয়ে আসেন এই যাত্রাবাড়ী। আবার পণ্য ক্রয় করতে বিভিন্ন পাইকাররা আসেন এই যাত্রাবাড়ি। বাংলাদেশের  সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও জনপ্রিয় বাজার হলো এই যাত্রাবাড়ি। এখানে বিভিন্ন ধরনের বড় বড় পাইকারি আড়ৎ ঘড়ে ওঠেছে। রাত ৮টা থেকে শুরু হয় মাল আসা রাত ০২টা পর্যন্ত আসতে থাকে। তার পর থেকে শুরু হয় দেশের বিভিন্ন জেলার পাইকারদের আগমন। রাত ৩টার পর থেকে শুরু হয় পাইকারি বেচাকিনা আস্তে আস্তে চলতে থাকে সকাল ৮ ট পর্যন্ত।

যাত্রাবাড়ী মাছের আড়ৎ

বর্তমানে সারা বাংলাদেশের জন্য জনপ্রিয় বাজার হলো এই যাত্রাবাড়ি বাজার। এখানে বিভিন্ন জেলা থেকে বিভিন্ন মাছ চাষিরা মাছ নিয়ে আসেন বেচার জন্য। যাত্রাবাড়ী থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় মাছ ছড়িয়ে পরেন। যাত্রাবাড়ী মাছ বেচাকিনা শুরু হয় রাত বারটার পর থেকে পরের দিন সকাল ৮টা পর্যন্ত। বিভিন্ন জেলার পাইকাররা পিক আপ ভ্যান নিয়ে আসে মাছ নেওয়ার জন্য। তার পর থেকে শুরু হয় খুচরা বেচাকেনা। সারা দিন এ চলতে থাকে এই বেচাকেনা।

কাঁচামালের  আড়ৎ

কাচামালের  জগতে সব থেকে বড় পাইকারি মার্কেট হলো এই যাত্রাবাড়ি। বাংলাদেশের  সবচেয়ে  জনপ্রিয় বাজার এই যাত্রাবাড়ি। দেশের বিভিন্ন জেলার কৃষকরা তাদের তরিতরকারি নিয়ে আসেন এই যাত্রাবাড়ি। সন্ধা হতেই না হতে দেখ যায় বিভিন্ন  ধরনের কাচামালের টাক। আবার মধ্য রাত থেকে দেখা যায় দেশের  বিভিন্ন জেলার পাইকাররা পিক আপ ভ্যান নিয়ে আসেন কাচামাল কিনে নিয়ে আসার জন্য। এমন করে চলতে থাকে সকাল ৮ট পর্যন্ত। তার পর থেকে শুরু হয় খুচরা বেচাকেনা। চলতে থাকে সারা দিন।

ফলের আড়ৎ

যাত্রাবাড়ী, ফলের জগতে সব থেকে বড় পাইকারি বাজার। এখানে বিভিন্ন ধরনের ফল পাওয়া যায়। দেশি-বিদেশি যত ধরনের ফল আছে এই যাত্রাবাড়ি পাওয়া যায়। ফলের সিজেন আসলেই দেখা যায় কত রকমের ফল। বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন ধরনের ফলের পাইকাররা ফল নিয়ে আসেন এই যাত্রাবাড়ী।

যাত্রাবাড়ী ফার্নিচার মার্কেট

যাত্রাবাড়ী, থেকে পশ্চিমে উত্তর ও দক্ষিণ পাশে মিলে মোট ৩০ টি দোকান নিয়ে গড়ে উঠে এই ফার্নিচার মার্কেট। এখানে স্টীল, লোহার, মেলামাইন, কাঠের ইত্যাদির আসবাবপত্র  পাওয়া যায়। তাছারা এখানে দেশি বিদেশি ফোমের দোকান রয়েছে। এখান থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানের পাইকাররা আসবাবপত্র নিয়ে থাকেন।

See also  গুলিস্তান পাতাল মার্কেট! মাটির নিচে জমজমাট মোবাইল বেচাকেনা